আমি জানি এ
কথা পড়ার সাথে সাথে অনেকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। অনেকে আবার আফসোসে
মাথা নাড়ছেন। আর তাহমিদ তো....
যাই হোক মূল কথায় আসি। আপনি কি বিয়ে করতে চান? আপনি হয়তো ভাবছেন- এ
আবার কি রকম কথা। অবশ্যই চাই। আসলে একজন মানুষ কেন বিয়ে করতে চায়? আমরা মোটামুটি ৫টি কারণ চিহ্নত করতে পারি-১. শারিরীক
২. মানসিক
৩. পারিবারিক
৪. আর্থিক
৫. আত্মিক
আবার বিয়ে ব্যাপারে আমরা অনেক ফ্যান্টাসিতে ভুগি। অনেক অবিদ্যাতেও ভুগি। আসলে বিয়ে একটা খুব সাধারণ ঘটনা। আপনার আগেও কটি কটি মানুষ বিয়ে করেছে এবং আপনার পরেও অনেকে করবে। যারা বিয়ে করেছে তাদের মধ্যে যেমন হাজারো সফল মানুষ রয়েছে। আবার বিয়ে না করা সফল মানুষের লিস্টও অনেক লম্বা। অর্থাৎ আপনার সাফল্য-ব্যর্থতার সাথে বিয়ের কোন সম্পর্ক নেই। আপনি আসলে তখনি বিয়ে করবেন, যখন আপনি প্রয়োজন অনুভব করবেন।
কাকে বিয়ে করবেন?
বিয়ে আসলে একটা চুক্তি। বিয়ে মানে পারস্পারিক আদান প্রদান। এই আদান প্রদান ব্যাক্তি পর্যযায়ে, এই আদান-প্রদান পরিবার পর্যায়ে। বিয়ে মানে দায়িত্ব গ্রহণ। এ জন্য বিয়ের পাত্র-পাত্রিকে নির্বাচন করতে হবে অনেক সতর্কতার সাথে, যিনি এই দায়ত্ব পালন করতে পারবেন। আসলে প্রেম আর বিয়ের মাঝে অনেক পার্থক্য আছে। তথাকথিক প্রেমে কোন দায়িত্ব নেই। তাই প্রেম যাকে ভালো লাগে তার সাথেই করা যায়, সে দায়িত্ব নিতে পারুক বা না পারুক। কিন্তু যে সে দায়িত্ব নিতে পারে না তাকে বিয়ে করলে কপালে দু:খ ছাড়া আর কিছু নেই।
আসলে বিয়ের যোগ্য পাত্র-পাত্রী কারা?
এখন যোগ্য পাত্রের সজ্ঞা পাল্টে গেছে। এক সময় মেয়ের বাবা খোঁজ করতেন পাত্র সৎ কি না। আর এখন খোঁজ নেয়া হয় পাত্রের উপরি কত! মাল্টিন্যাশনাল কম্পানিতে চাকরি করে, অঢেল টাকা, অনেক ক্ষমতা এসবই এখন যোগ্যতা। আসলে আপনি যদি সুখী হতে চান- তাহলে আপনার উচিৎ হবে অন্য সব কিছুর পাশিপাশি এক জন ভালো মানুষকে খুঁজে বের করা এবং তাকে বিয়ে করা। এর ফলে হয়তো আপনার জীবনে সাচ্ছন্দের কিছু অভাব হতে পারে কিন্তু সুখের কোন অভাব হবে না।
আবার কেমন মেয়ে বিয়ে করতে হবে এ নিয়ে নবীজী (সা:) এর একটি চমৎকার হাদীস আছে-
কোন নারীকে চারটি যোগ্যতার কারনে বিয়ে করা যায়।
১. সম্পদ
২. বংশমর্যাদা
৩. রুপ
৪. গুন
এমন নারী খোঁজ যার গুণ আছ। অন্য বিবেচনায় বিয়ে করলে তুমি ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
-বোখারী
এর পর কি আর কিছু বলার প্রয়োজন আছে?
আর একটা কথা সুন্দর ছেলে বা মেয়ে কে বিয়ে করতে হবে- এই চিন্তার বিষয়ে আপনাকে অবশ্যই বাস্তব সম্মত চিন্তা করতে হবে। বর যদি শাখরুখ খানের মত আর বউ ঐশ্বরীয়ার মত চাইলে খুব মুশকিল।
আবার যদি মেয়ের পরিবার ধার্মিক ও উদার মনা- কবিতা, গান এসব পছন্দ করে। অপর দিকে ছেলের পরিবার কট্টর তাবলিগ। সমস্য হবেই।
বাবা-মার পছন্দে বিয়ে না নিজের পছন্দে বিয়ে?
বিয়ে যেহেতু আপনি করছেন- তাই পছন্দ আপনারই হতে হবে, কিন্তু তা পরিবারকে অস্বীকার করে না। আসলে বাবা-মার দোয়া ছাড়া যে বিয়ে তা কখনও পরিপূর্ণ হতে পারে না; সেখানে একটা ফাঁক থকেই যায়।
সব শেষে দেখে শুনে বিয়ে করা কেন প্রয়োজন তা নীচের গল্প পড়লেই বুঝতে পারবেন।
দু'জনার নতুন বিয়ে হয়েছে। খুব ভাব-ভালোবাসা। অনেক আনন্দে তাদের দিন কাটছে। এভাবে এক বছর কেটে গেল। স্ত্রী সন্তান-সম্ভবা। দীর্ঘ দিনের জন্য মায়ের বাড়ি যাবে। দু'জনারই খুব মন খারাপ। তো যাওয়ার দিন স্বামী তার স্ত্রীকে বিদায় দেয়ার জন্য রেল-ষ্টেশনে এসেছে। ট্রেন চলতে শুরু করেছে। স্ত্রী জানালা দিয়ে মাথা বের করে দেখছে। স্বামী স্টেশনে দাড়িয়ে হাত নাড়ছে। দুজনার চোখ দিয়ে অঝরে পানি পড়ছে। এক সময় ট্রেন দৃষ্টির সীমানার বাইরে চলে গেল।
এবার সেই ব্যক্তি খেয়াল করলেন- তার পাশেই আর এক লোক (তার বয়সী) রীতিমত হাউমাউ করে কাঁদছে। তার খুব মায়া হলো, সে লোকটির কাছে গিয়ে বললো-" ছি এভাবে কাঁদতে আছে। আমারও তো বউ এই ট্রেনে চলে গেল, তাই বলে আমি কি এভাবে কাঁদছি। সে তো কিছু দিন পর আবার ফিরে আসবে।"
তার এই কথা শুনে লোকটি কোনমতে কান্না থামিয়ে বললো-" আমার বউতো এই ট্রেনে যায়নি।"
- "তাহলে আপনি কাঁদছেন কেন?"
-"কারণ! আমার বউ সামনের ট্রেনে ফেরত আসছে।" লোকটি আরও জোরে কাঁদতে লাগলো।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন