এই গ্রহে প্রতি তিন সেকেন্ডে একটি করে বালিকাকে, কোন কোন ক্ষেত্রে তারা হয়তো দুধের শিশু, জোর করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে৷ এই মেয়েরা বড় হওয়ার পর শতকরা ১০০ ভাগ ক্ষেত্রে চরম দারিদ্র আর বঞ্চনার জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়৷ অপরিণত বয়সে সন্তানধারণ করতে গিয়ে স্বাস্থ্যের চরম অবনতির শিকার হয় তাদের মধ্যে অনেকেই৷ প্রতি বছর দশ মিলিয়ন মেয়ে এই পৃথিবীতে এমন অত্যাচারের শিকার হচ্ছে৷
বাল্যবিবাহ, একটি পুরোনো কুসংস্কার।
একটি বাল্যবিবাহ জন্ম দেয় হাজারো সমস্যা। কিছু সমস্যা তৈরি হয় বাল্যবিবাহের কারনে। আবার কিছু সমস্যাকে সমাধান করার জন্য বাল্যবিবাহকে একমাত্র মাধ্যম হিসাবে ধরা হয়। আমাদের সন্দ্বীপের ৯০% মানুষই বাল্যবিবাহের ভয়াল ছোবলে ভয়াভহ ভাবে আক্রান্ত।
যেটি বাংলাদেশের অন্য অন্য গ্রাম অঞ্চলের মতো আমাদের প্রিয় স্বপ্ন ভুমি সন্দ্বীপে ও চলছে অভিরাম। যেটি তিলে তিলে ধ্বংস করে দিচ্ছে আমাদের সমাজকে। অথচ আমরা কেউই সেটা বুঝতে পারতেছিনা। বাল্যবিবাহ আমাদেরকে কি কি ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে সেই বিষয়ে আলোচনা করা অত্যন্ত জরুরী।
(১) সন্দ্বীপের ছেলে মেয়েদের অল্প বয়সে পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়া।
(২) স্কুল ছাত্র ছাত্রীদের পালিয়ে বিয়ে করার প্রবঞ্চনা।
(৩) অল্প বয়সে শশুর বাড়িতে গিয়ে ঠিকমতো সংসার সামলাতে না পারার জন্য শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতনের শিকার হওয়া।
বাল্যবিবাহকে যে সকল সমস্যার সমাধান হিসাবে ধরা হয় ...
(১) ইভটিজিং রোধ করতে।
(২) সন্দ্বীপে উচ্চ শিক্ষার ভালো সুযোগ না থাকায়।
(৩) গরীব ও দরিদ্র পিতা,মাতার সুন্দরী কন্যাদের অল্প খরচে বিয়ে দেওয়ার ও একমাত্র মাধ্যম এই বাল্যবিবাহ।
যে সকল কারনে মানুষ পুরোপুরি সচেতন হতে পারেনা এই বাল্যবিবাহর ব্যাপারে।
(১) বিদ্যুৎ সুবিধা না থাকায় মানুষ ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া থেকে বঞ্চিত।
(২) প্রতিদিন প্রয়োজনের চেয়েও অনেক কম পরিমান দৈনিক পত্রিকা আসে সন্দ্বীপে। যার জন্য সবাই প্রতিদিন দেশের খবরা খবর জানতে পারেনা।
একটি গল্প দিয়ে শুরু করছি .........
(গল্পটি ১৯৮৫এর প্রেক্ষাপট নিয়ে রচিত)
কুদ্দুস আলী। মধ্যপ্রাচ্যের কোনো এক দেশে কাজ করে। বাগানের কাজ। বাগান অর্থ কোনো ফুলের বাগান নয়। খেজুরের বাগান সেই সাথে উটের জন্য ঘাসের ও চাষ করা হয়। উনি যা করুক না কেনো উনি কিন্তু বিদেশিওলা। কুদ্দুস আলী বাড়িতে আসলেন ছুটিতে। উদ্দেশ্য বিয়ে করবেন। যথারীতি মেয়েও দেখা শুরু করলো সবাই। অনেক দেখে শুনে পাশের গ্রামের রাবেয়া বেগম কে পছন্দ করলো সবাই। রাবেয়া ক্লাস ৫ পাশ করেছে মাত্র।
তাই প্রতি সপ্তাহে সন্দ্বীপে ঘটে যাচ্ছে এমন অনেক বিয়ে। মাত্র ১৫-১৬ বছর বয়সের মেয়েদের বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিয়ের পীরিতে। পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে শশুর বাড়ীতে। নিজের ভবিষ্যতের সাথে সাথে আরো অনেকের ভবিষ্যতের পাট-চুকিয়ে। যারা বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে তারা বুঝতেও পারছেনা তাদের সাথে কি করা হচ্ছে ?? বুঝবে কি করে ?? যেখানে আধুনিকতার ছোঁয়া মানুষের মুখে মুখে লাগলেও এখনো লাগেনি সবার অন্তরে। বিদ্যুৎ সুবিধা না থাকায় সেখানকার মানুষ এখনো অনেক দূরে পরে আছে পৃথিবীর নতুনত্ব থেকে। যাতায়াত ব্যাবস্থার সুবিধার কারনে ভালো শিক্ষক ও পাচ্ছেনা কলেজগুলোতে। তাই ছেলেরা পড়ালেখা ঠিকমতো চালিয়ে যেতে পারলেও মেয়েরা তা পারছেনা। যার কারনে অনেককে অনিচ্ছাকৃত বিয়ে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
নদী ভাঙ্গন > আরেকটি কারন বাল্যবিবাহ সংগঠিত হওয়ার। বাংলাদেশের অন্য সব এলাকার মানুষের চেয়েও সন্দ্বীপের মানুষের একটি চিন্তা বেশি করতে হয়, যেটা হল মূল-ভুখন্ড থেকে আলাদা হয়ে থাকা সন্দ্বীপ থেকে বের হয়ে অন্য কোথাও বাড়ি-ঘর করা। যা অনেকের দ্বারা সম্ভব হয়না। তাই সন্দ্বীপের বাহিরে বাড়ি-ঘর আছে, এমন কেউ যদি কোনো ১৪বছরের মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায় তাহলে সেই প্রস্তাব কেও প্রত্যাখ্যান করা হয়না।
সেই সাথে আছে আমেরিকা,লন্ডনের ডলার / পাউন্ড এর দাপট। এমন কোনো পরিবার থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসলে সেটাকে তো স্বর্গীয় সুযোগ ভাবা হয়। তখন কেউ আর না বলতে পারেনা। ৪০/৪৫ বছরের লোকদের কাছে ও দিয়ে দেওয়া হয় ১৩/১৪ বছরের কিশোরী কে .........
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন