বাংলাদেশের
আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে বাল্যবিবাহের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কারণঃ-
(১)- অনটনের সংসারে ব্যয় হ্রাস বা আয় বৃদ্ধির তাড়না থাকে প্রায় সকল অভিভাবকের অন্তরে। (ক)ভবিষ্যতে 'কন্যাদায়' যেন বড় খরচের দায় হয়ে না দাঁড়ায় সেকথা মাথায় রেখে অল্পবয়সে বিয়ে সেরে ফেলতে পারলে একটা "খরচের দায়" কমে গেল! (খ)বিপরীতে পুত্রের কর্মসংস্থান কিম্বা বহির্গামী প্রবণতাকে অন্তর্মুখী করে সংসারে আটকানোর জন্য দ্রুত বিয়ে দিতে চান। অভিভাবকদের পছন্দমতে অন্ততঃ ৫/৭ বছরের বয়স ব্যবধান মাথায় রেখে স্বাভাবিকভাবেই ১৬/২০বছরের তরুণের জন্য ১১/১৫ বছরের কিশোরী খোঁজেন। তখন ক+খ মিলে গেলে বাল্য বিবাহ আবধারিত হয়ে যায়!
(২) ভবিষ্যতে সংসারের উন্নয়নে আর্থিকভাবে অংশগ্রহন করা ছেলেদের জন্য বাধ্যতামূলক, অথচ মেয়েরা স্বামী/শ্বশুরপক্ষ থেকে হাজারো প্রতিবন্দ্ধকতার সম্মুখীন হয় নিজের আয় পিতামাতার সংসারে ব্যয় করতে। সংগত কারণেই অধিকাংশ পিতামাতা ছেলেকে শিক্ষিত ও উপার্জনক্ষম করায় যতটা মনযোগ দেন মেয়ের জন্য ততটা দেননা, বরং তাকে 'বিদায়' করতেই আগ্রহী থাকেন!
(৩) কোনো পিতামাতার এক/একাধিক বড় সন্তান যদি কন্যা হয় তবে তারা বড় হয়ে সংসারের হাল ধরবে এমনটা যেমন পিতামাতা মনে করেন না, তেমনি আমাদের সামাজিক ব্যবস্থাও সে পরিবেশ দেয়না; আবার পিতামাতা অনেক কষ্টে সেটাই করতে চাইলেও বয়সের কারণে একসময় মেয়ের বিয়ে দিতেই হয় এবং তখন মেয়ের আয় থেকে পিতামাতা বঞ্চিত হয়ে যান! দেখা যায় ছোট ছেলেটার এখনো সে বয়স/যোগ্যতা/সামর্থই হয়নি সংসারের হাল ধরার জন্য! কোনো পিতামাতাই চাননা এ অনিশ্চয়তার মুখোমুখী হতে।
(৪) ছেলেমেয়েদের পরস্পরের প্রতি উৎপাত: বয়সের একটি অলংঘনীয় অনুসর্গ যৌবনে পদার্পণের কালে বিপরীতের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া। বাস্তবতায় উভয়ের মধ্যে খুব বেশী ব্যবধান না থাকলেও প্রচার ও সামাজিক দৃষ্টি-ভংগীর কারণে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই ছেলেরা 'দোষী' সাব্যস্ত হয়, কিন্তু বিপদে পড়ে মেয়েরাই বেশী। পিতামাতা মেয়েকে নিয়ে এ বিপদে পড়তে চাননা, তাই মেয়েকে 'বিদায়' করে বিপদমুক্ত থাকতে চেষ্টা করেন।
(৫) দাদী-নানী পর্যায়ের বৃদ্ধ আত্মীয়দের "নাতবৌ/নাতজামাই" দেখার (অন্তিম) সখ পূরণের জন্য ও অনেক বাল্য বিবাহ সংঘটিত হয়। এটার ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন।
(৬) অভিভাবকত্বের সমস্যাঃ পিতামাতার বিচ্ছেদ কিম্বা মৃত্যুর কারণে যে কন্যাশিশু অন্য আত্মীয়ের কাছে ঠাঁই পেয়ে বড় হয় তারা প্রায়ই অযত্নের শিকার হয় এবং কোনোমতে বিদায় করতে পারলেই ঐ আত্মীয় বেঁচে যান। আবার কোনো আত্মীয় সন্তানস্নেহে ঐ কন্যাশিশুকে "মানুষ" করতে চেষ্টা করলে এবং মেয়েটির যেকোন বেঠিক আচরণের কারণে তাকে শাসন করলে অন্য আত্মীয়রা ও মেয়েটি নিজেও সেটাকে "অত্যাচার" মনে করতে থাকে, তখন তাকে "মানুষ" করা খুব কঠিণ হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রেও অভিভাবক তাকে বিদায় করে বাঁচতে চান।
(১)- অনটনের সংসারে ব্যয় হ্রাস বা আয় বৃদ্ধির তাড়না থাকে প্রায় সকল অভিভাবকের অন্তরে। (ক)ভবিষ্যতে 'কন্যাদায়' যেন বড় খরচের দায় হয়ে না দাঁড়ায় সেকথা মাথায় রেখে অল্পবয়সে বিয়ে সেরে ফেলতে পারলে একটা "খরচের দায়" কমে গেল! (খ)বিপরীতে পুত্রের কর্মসংস্থান কিম্বা বহির্গামী প্রবণতাকে অন্তর্মুখী করে সংসারে আটকানোর জন্য দ্রুত বিয়ে দিতে চান। অভিভাবকদের পছন্দমতে অন্ততঃ ৫/৭ বছরের বয়স ব্যবধান মাথায় রেখে স্বাভাবিকভাবেই ১৬/২০বছরের তরুণের জন্য ১১/১৫ বছরের কিশোরী খোঁজেন। তখন ক+খ মিলে গেলে বাল্য বিবাহ আবধারিত হয়ে যায়!
(২) ভবিষ্যতে সংসারের উন্নয়নে আর্থিকভাবে অংশগ্রহন করা ছেলেদের জন্য বাধ্যতামূলক, অথচ মেয়েরা স্বামী/শ্বশুরপক্ষ থেকে হাজারো প্রতিবন্দ্ধকতার সম্মুখীন হয় নিজের আয় পিতামাতার সংসারে ব্যয় করতে। সংগত কারণেই অধিকাংশ পিতামাতা ছেলেকে শিক্ষিত ও উপার্জনক্ষম করায় যতটা মনযোগ দেন মেয়ের জন্য ততটা দেননা, বরং তাকে 'বিদায়' করতেই আগ্রহী থাকেন!
(৩) কোনো পিতামাতার এক/একাধিক বড় সন্তান যদি কন্যা হয় তবে তারা বড় হয়ে সংসারের হাল ধরবে এমনটা যেমন পিতামাতা মনে করেন না, তেমনি আমাদের সামাজিক ব্যবস্থাও সে পরিবেশ দেয়না; আবার পিতামাতা অনেক কষ্টে সেটাই করতে চাইলেও বয়সের কারণে একসময় মেয়ের বিয়ে দিতেই হয় এবং তখন মেয়ের আয় থেকে পিতামাতা বঞ্চিত হয়ে যান! দেখা যায় ছোট ছেলেটার এখনো সে বয়স/যোগ্যতা/সামর্থই হয়নি সংসারের হাল ধরার জন্য! কোনো পিতামাতাই চাননা এ অনিশ্চয়তার মুখোমুখী হতে।
(৪) ছেলেমেয়েদের পরস্পরের প্রতি উৎপাত: বয়সের একটি অলংঘনীয় অনুসর্গ যৌবনে পদার্পণের কালে বিপরীতের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া। বাস্তবতায় উভয়ের মধ্যে খুব বেশী ব্যবধান না থাকলেও প্রচার ও সামাজিক দৃষ্টি-ভংগীর কারণে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই ছেলেরা 'দোষী' সাব্যস্ত হয়, কিন্তু বিপদে পড়ে মেয়েরাই বেশী। পিতামাতা মেয়েকে নিয়ে এ বিপদে পড়তে চাননা, তাই মেয়েকে 'বিদায়' করে বিপদমুক্ত থাকতে চেষ্টা করেন।
(৫) দাদী-নানী পর্যায়ের বৃদ্ধ আত্মীয়দের "নাতবৌ/নাতজামাই" দেখার (অন্তিম) সখ পূরণের জন্য ও অনেক বাল্য বিবাহ সংঘটিত হয়। এটার ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন।
(৬) অভিভাবকত্বের সমস্যাঃ পিতামাতার বিচ্ছেদ কিম্বা মৃত্যুর কারণে যে কন্যাশিশু অন্য আত্মীয়ের কাছে ঠাঁই পেয়ে বড় হয় তারা প্রায়ই অযত্নের শিকার হয় এবং কোনোমতে বিদায় করতে পারলেই ঐ আত্মীয় বেঁচে যান। আবার কোনো আত্মীয় সন্তানস্নেহে ঐ কন্যাশিশুকে "মানুষ" করতে চেষ্টা করলে এবং মেয়েটির যেকোন বেঠিক আচরণের কারণে তাকে শাসন করলে অন্য আত্মীয়রা ও মেয়েটি নিজেও সেটাকে "অত্যাচার" মনে করতে থাকে, তখন তাকে "মানুষ" করা খুব কঠিণ হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রেও অভিভাবক তাকে বিদায় করে বাঁচতে চান।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন